গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে ১০ দফা দাবিগৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা, আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে আশার আলো সোসাইটি, নারী মৈত্রী ও সহায়।

বুধবার (৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জমায়েতে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তব্যে নারী মৈত্রীর পক্ষে রামিসা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের অভাবের ফলে প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসছে। আর এইসব মানুষদের বড় একটি অংশ শহরগুলোতে, বিশেষত নারীরা গৃহভিত্তিক শ্রমকে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতসংখ্যক গৃহশ্রমিক গৃহকর্মে নিযুক্ত আছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা ২০ লাখ। এসব শ্রমিকের বড় অংশই নারী শ্রমিক। এই বিশাল জনগোষ্ঠী গৃহের অভ্যন্তরে তাদের শ্রম বিনিময় করে।

তিনি আরো বলেন, গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নীতিমালায় সরকারের দায়িত্ব হিসাবে যা উল্লেখ রয়েছে, তার কোনো বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান হয়নি। হেল্পলাইন, মনিটরিং সেলের কোনো কার্যকারিতা নেই। গৃহকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আমরা মনে করি, গৃহকর্মীদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার জন্য এই কার্যক্রমগুলো চলমান রাখা জরুরি।

যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো-

১. শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. গৃহকর্মীদের কাজের সময়সীমা, বিশ্রাম, বিনোদন, বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সুদৃঢ় আইনি কাঠামো তৈরি করা।

৩. গৃহকর্মে নিয়োজিত গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সরকারের মনিটরিং সেল থেকে নিশ্চিত করা।

৪. গৃহকর্মীদের শহরে কাজে পাঠানোর আগে নিজ ইউনিয়নে ও থানায় নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৫. গৃহকর্মীরা গৃহকাজে নিযুক্ত অবস্থায় কোনো ধরনের অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়োগ কর্তা ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে করা।

৬. সরকারি উদ্যোগে গৃহকর্মীদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। এতে করে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে।

৭. গৃহকর্মীদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা করা।

৮. গৃহশ্রমিকের উপর সহিংসতামূলক মামলাগুলো নিয়মিত তদারকি করা।

৯. গৃহশ্রমিকদের সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা, জাতীয় পেনশন স্কিম, ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

১০. বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা গৃহশ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধনের আওতায় আনা।

এস/

 

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}