ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে ব্যাহত হয়েছে ফ্লাইট চলাচল। এসব সত্ত্বেও এমিরেটস গ্রুপ রেকর্ড ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৬.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক এয়ারলাইন এখন এমিরেটস।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এমিরেটস গ্রুপ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (১ এপ্রিল ২০২৫ – ৩১ মার্চ ২০২৬) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে। সেখানে এই তথ্য উঠে আসে।

এমিরেটস বাংলাদেশ জানায়, এমিরেটস, ডানাটা এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত এমিরেটস গ্রুপ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭% বেশি। একইসঙ্গে রাজস্ব আয় বেড়ে রেকর্ড ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গ্রুপটির নগদ সম্পদ ১২% বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বছরজুড়ে গ্রুপটি নতুন উড়োজাহাজ, স্থাপনা, সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এমিরেটস গ্রুপ তাদের মালিক প্রতিষ্ঠান দুবাই ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনকে ১ বিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক মূল্যবান এয়ারলাইন ব্র্যান্ড এমিরেটস এয়ারলাইন বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক এয়ারলাইন হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর-পূর্ব মুনাফা ৭% বেড়ে ৬.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এয়ারলাইনটির রাজস্ব আয় ২% বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং নগদ সম্পদের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমানে এমিরেটসের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ৮০টি দেশের ১৫২টি শহরে বিস্তৃত। এছাড়া ৩২টি কোডশেয়ার ও ১১৭টি ইন্টারলাইন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যাত্রীরা ১৭০০-এর বেশি শহরে সংযোগ সুবিধা পাচ্ছেন।

এমিরেটস এয়ারলাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাইদ আল মাকতুম বলেন, আমাদের অর্থবছরের শেষ মাসে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এই অসাধারণ ফলাফল এমিরেটস গ্রুপের ব্যবসায়িক মডেলের শক্তি ও স্থিতিশীলতাকে পুনরায় প্রমাণ করেছে, যা নিরাপত্তা, উৎকর্ষতা, উদ্ভাবন, দক্ষ জনবল ও অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মৌলিক ভিত্তি বেশ শক্তিশালী। এমিরেটস গ্রুপের পরীক্ষিত ব্যবসায়িক মডেল অপরিবর্তিত রয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, ব্যবসা ও ভ্রমণের কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান ধরে রাখার পরিকল্পনাও অপরিবর্তিত। বিশ্বের সেরা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং সারা বিশ্বকে সেবা দেওয়ার লক্ষেও আমরা অবিচল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমিরেটস এয়ারলাইন ৫ কোটি ৩২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। অন্যদিকে এমিরেটসের কার্গো পরিবহন শাখা, স্কাইকার্গো ২৪ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে ৪.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

এস/

 

 

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}