admin
১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন উদযাপন

বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন আজ (১৩ নভেম্বর)। মৃত্যুর পরও তাঁর সৃষ্টির আবেশে আজও বেঁচে আছেন তিনি। প্রিয় লেখককে স্মরণ করতে গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশপল্লীতে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নেমেছে সকাল থেকেই।

সকালে লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই পুত্র নিনিত ও নিষাদসহ পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরো নুহাশপল্লী তখন মুখরিত হয়ে ওঠে ভক্তদের পদচারণায়, স্মৃতিচারণে আর ভালোবাসার আবেশে।

দিনভর নুহাশপল্লীতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ হাতে ফুল নিয়ে সমাধিতে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলেছেন, কেউ আবার প্রিয় চরিত্র হিমু’র মতো হলুদ পাঞ্জাবি পরে এসেছেন প্রিয় লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে। বিকেলে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় গান ও সংলাপ পাঠের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ঘনাতেই পুরো নুহাশপল্লী আলোয় ঝলমল করে ওঠে—১,০৭৭টি মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় প্রিয় লেখককে। পরে কাটা হয় জন্মদিনের কেক এবং সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এ সময় মেহের আফরোজ শাওন বলেন,
“হুমায়ূনের অসমাপ্ত স্বপ্ন—একটি ক্যান্সার হাসপাতাল ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা—এখনো পূরণ করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় আমি নিজের কাঁধে নিচ্ছি। তবে তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।”

গাজীপুরের শালবনঘেরা নুহাশপল্লী প্রায় ৪০ বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হুমায়ূনের স্বপ্নের রাজ্য। এখানে রয়েছে ফলের বাগান, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পরিবেশ। এখানেই তিনি লিখেছেন তাঁর বহু জনপ্রিয় উপন্যাস ও নাটকের চিত্রনাট্য। মৃত্যুর পরও এই পল্লী হয়ে উঠেছে ভক্তদের এক পবিত্র তীর্থস্থান।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মাতামহের বাড়িতে জন্ম নেন হুমায়ূন আহমেদ। পৈত্রিক নিবাস একই জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অপরিসীম। হিমু, মিসির আলি, বাকের ভাই—এসব কালজয়ী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি বাঙালির মনের গভীরে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টি আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

নুহাশপল্লীর লিচুতলার নিচে দাঁড়িয়ে এক তরুণ ভক্ত বলেন,
“স্যার নেই, তবুও তাঁর গল্প, সংলাপ আর চরিত্রগুলো আমাদের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলে। মনে হয়, তিনি এখানেই আছেন—এই গাছের নিচে, এই বাতাসে।”

ভক্তদের এমন ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় একবারেই স্পষ্ট—
হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন, তিনি বাঙালির অনুভূতির নাম।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্নীতি রোধে সফল হলে নিজস্ব অর্থেই হবে বড় উন্নয়ন প্রকল্প: পানিসম্পদমন্ত্রী

সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুর পরিকল্পনা

বাংলাদেশি মুসলমানদের পুশ ইন, পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য মন্ত্রীর ঝটিকা পদত্যাগ এবং পাহাড়ে নানা জল্পনা–কল্পনা

পুলিশের জন্য ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কিনবে সরকার

দক্ষিণ আফ্রিকায় বস্তিতে বন্দুক হামলা, নিহত ১২

বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা বলল ভারত

সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখা খোলা শনিবার

১০

ভারতে ফিরলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে

১১

গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে রাজধানীতে দগ্ধ ৬

১২

প্রধানমন্ত্রীর মানহানি: লক্ষ্মীপুরে শ্রমিকশক্তির নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

১৩

বাংলাদেশে দুই প্রতিনিধি পাঠানোর কারণ জানাল আইসিসি

১৪

মোহনীয় সাজের নেপথ্যের গল্প বললেন ফারিয়া

১৫

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি বরং প্রকৃত সমস্যা আড়াল হয়েছে : সিপিডি

১৬

হাসপাতালে ফজলে করিম, পেছাল অভিযোগ গঠন শুনানি

১৭

আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখছে যে প্রতিপক্ষ!

১৮

সিরাজগঞ্জে বাস-সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ৩

১৯

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি, পাটুরিয়া রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

২০