MNB News
৬ মে ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে ১০ দফা দাবি

গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে ১০ দফা দাবিগৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা, আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে আশার আলো সোসাইটি, নারী মৈত্রী ও সহায়।

বুধবার (৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জমায়েতে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তব্যে নারী মৈত্রীর পক্ষে রামিসা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের অভাবের ফলে প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসছে। আর এইসব মানুষদের বড় একটি অংশ শহরগুলোতে, বিশেষত নারীরা গৃহভিত্তিক শ্রমকে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতসংখ্যক গৃহশ্রমিক গৃহকর্মে নিযুক্ত আছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা ২০ লাখ। এসব শ্রমিকের বড় অংশই নারী শ্রমিক। এই বিশাল জনগোষ্ঠী গৃহের অভ্যন্তরে তাদের শ্রম বিনিময় করে।

তিনি আরো বলেন, গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নীতিমালায় সরকারের দায়িত্ব হিসাবে যা উল্লেখ রয়েছে, তার কোনো বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান হয়নি। হেল্পলাইন, মনিটরিং সেলের কোনো কার্যকারিতা নেই। গৃহকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আমরা মনে করি, গৃহকর্মীদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার জন্য এই কার্যক্রমগুলো চলমান রাখা জরুরি।

যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো-

১. শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. গৃহকর্মীদের কাজের সময়সীমা, বিশ্রাম, বিনোদন, বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সুদৃঢ় আইনি কাঠামো তৈরি করা।

৩. গৃহকর্মে নিয়োজিত গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সরকারের মনিটরিং সেল থেকে নিশ্চিত করা।

৪. গৃহকর্মীদের শহরে কাজে পাঠানোর আগে নিজ ইউনিয়নে ও থানায় নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৫. গৃহকর্মীরা গৃহকাজে নিযুক্ত অবস্থায় কোনো ধরনের অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়োগ কর্তা ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে করা।

৬. সরকারি উদ্যোগে গৃহকর্মীদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। এতে করে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে।

৭. গৃহকর্মীদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা করা।

৮. গৃহশ্রমিকের উপর সহিংসতামূলক মামলাগুলো নিয়মিত তদারকি করা।

৯. গৃহশ্রমিকদের সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা, জাতীয় পেনশন স্কিম, ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

১০. বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা গৃহশ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধনের আওতায় আনা।

এস/

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে

১

বাবার বকুনিতে বাড়ি ছাড়ে আব্দুল্লাহ, ৭ দিন পর টঙ্গী স্টেশনে উদ্ধার

২

গাড়ি চালকসহ সন্দীপের সাবেক এমপি মিতা রিমান্ডে

৩

ডাক্তার দেখাতে বের হয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্ত্রীর, স্বামী আহত

৪

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

৫

‘কোচ-অধিনায়ককে সাইজ’ করার বক্তব্য সারোয়ারের, ব্যবস্থা নেবে বিসিবি

৬

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে ভারতকে গভর্নরের আহ্বান

৭

মা আর নেই : রানি মুখার্জি

৮

সাংবাদিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু যুক্তরাষ্ট্রে

৯

আশুলিয়ায় লরিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১০

ব্যাটারি তৈরির আড়ালে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি

১১

ফুটবলে দল হিসেবে মেসির শেষ প্রতিপক্ষ বেনিন কেমন?

১২

ভক্তদের দুঃশ্চিন্তা দূর করলেন শাহরুখ খান

১৩

ইসলাম মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে : শায়খ সুদাইস

১৪

ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির জন্য নিউজিল্যান্ডে আইন পাস

১৫

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি রূপ নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

১৬

চার অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

১৭

প্রথম ধাপ- রাত ৮টার পর একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ

১৮

আমজাদের সংগ্রহশালায় শত বছরের দুর্লভ গ্রামোফোন

১৯

মীর শাহে আলমের সই জাল করার অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

২০