MNB News
১১ আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন আরও চার হাজারের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার কঙ্গোর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইবোলা ভাইরাসে কঙ্গোতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১১ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, কঙ্গোর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড; যা দেশটিতে প্রাণহানির মর্মান্তিক মাইলফলক তৈরি করেছে।

কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশটির পাঁচটি প্রদেশজুড়ে এই ভাইরাসে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে। দেরীতে শনাক্ত, সংঘাত এবং বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে দেশটিতে অতীতের প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবার এই ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

কঙ্গোতে ১৭তম এই প্রাদুর্ভাব ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির কারণে ঘটেছে। আর এই প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী অনুমোদিত কোনো টিকা কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ভাইরাসটি ইতোমধ্যে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গত মাসে সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ইতুরি প্রদেশে গত জানুয়ারি বা তারও আগে সংক্রমণ শুরু হয়ে থাকতে পারে। এতে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে গত ১৫ মের মাঝে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের শরীরে ইবোলার সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

দেশটিতে চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি এবং উপদ্রুত এলাকাগুলোর অনিরাপদ পরিস্থিতি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, রোগীদের আইসোলেশন ও সংক্রমণ রোধের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত ও ১১ হাজার ৩১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই সময়ের তুলনায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলা হচ্ছে।

ওই সময় ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর মর্মান্তিক মাইলফলক ছুঁতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। সেখানে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কঙ্গোয় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ২ হাজার মানুষের মৃত্যুতে পৌঁছাতে ১২ মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছিল। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এক মাসেরও কম সময়ে মৃত্যু ১ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজারে পৌঁছেছে; যা ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোখায় হুথিদের ওপর বিমান হামলা

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ‘টেস্টার মোবারক’, অর্থ পাঠাতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

আলু বেশিদিন ভালো রাখার উপায় জেনে নিন

খুলনায় বিভাগে হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু

জাবিতে জাকসু জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার সামিট অনুষ্ঠিত

গ্রাম বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকায় বাঁধ দিচ্ছেন আমেরিকা প্রবাসী ইমরান

৬৭ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন, কড়া জবাব নীনা গুপ্তার

হরমুজ ইস্যুতে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান

বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরিবেশ-জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর

বিজ্ঞাপনের বাজার ধরতে পিএসএলের সূচিতে পরিবর্তন!

১০

বাবার জমি বিক্রি করে গিয়েছিলেন লেবানন, ফিরলেন লাশ হয়ে

১১

ভারতের রাজধানীতে বহুতল ভবন ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

১২

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

১৩

খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩৩৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

১৪

সাবেক ডিআইজি আতিকার স্বামীর সম্পদের হিসাব চায় দুদক

১৫

বিপিএল প্রতিবছর হওয়া উচিত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৬

মেঘ-বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েনি মানুষ!

১৭

শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে ১ লাখ করে টাকা দেবে সরকার

১৮

একটি সঠিক স্প্রে একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে

১৯

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

২০