MNB News
১২ আগস্ট ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘বক্স ক্র্যাব’, জেলেদের মাঝে কৌতূহল

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে অদ্ভুত আকৃতির বিরল সামুদ্রিক কাঁকড়া ‘বক্স ক্রাব’। যা স্থানীয়ভাবে ‘লজ্জাবতী কাঁকড়া’ নামেও পরিচিত। কাঁকড়াটিকে ঘিরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকার করে মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফেরে ইলিয়াশ মাঝির মাছধরা ট্রলার। অন্যান্য মাছের সঙ্গে জেলেদের জালে উঠে আসে অস্বাভাবিক আকৃতির ওই কাঁকড়াটি। পরে সেটি মহিপুরের আখি ফিস নামের একটি মাছের আড়তে নিয়ে আসা হয়।

তবে বক্স ক্রাবটি খাওয়ার উপযোগী কি না এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। পরে জেলেরা কাঁকড়াটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।

আখি ফিসের ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত এখানে দেখা যায় না। তাই জেলেদের মধ্যে এটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় বক্স ক্রাবের আকৃতি বেশ ভিন্ন। এর খোলস গোল ও চওড়া, ওপরের অংশ অনেকটা গম্বুজের মতো উঁচু এবং শক্ত। খোলসজুড়ে রয়েছে কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ। পাশাপাশি এর দুটি দাঁড়া তুলনামূলকভাবে বড় ও মোটা, যা প্রজাতিটিকে অন্য কাঁকড়া থেকে সহজেই আলাদা করে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এ প্রজাতির দেখা মেলে। সাধারণত বালুময় ও কাদাময় নরম সমুদ্রতল এবং কখনো প্রবাল প্রাচীর-সংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের বিচরণ।

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বক্স ক্রাব সচরাচর দেখা যায় না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি অপরিচিত হওয়ায় সাধারণত খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রচলনও নেই। তবে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে এ কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বক্স ক্রাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত শক্ত ও প্রশস্ত দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনে ভাঁজ করে কাঁকড়াটি অনেকটা মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বক্স ক্রাব খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশের উপকূলে এটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। এমন সামুদ্রিক প্রাণী উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া গেলে শুধু আহরণ বা বিক্রির বিষয় হিসেবে না দেখে এর প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোখায় হুথিদের ওপর বিমান হামলা

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ‘টেস্টার মোবারক’, অর্থ পাঠাতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

আলু বেশিদিন ভালো রাখার উপায় জেনে নিন

খুলনায় বিভাগে হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু

জাবিতে জাকসু জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার সামিট অনুষ্ঠিত

গ্রাম বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকায় বাঁধ দিচ্ছেন আমেরিকা প্রবাসী ইমরান

৬৭ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন, কড়া জবাব নীনা গুপ্তার

হরমুজ ইস্যুতে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান

বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরিবেশ-জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর

বিজ্ঞাপনের বাজার ধরতে পিএসএলের সূচিতে পরিবর্তন!

১০

বাবার জমি বিক্রি করে গিয়েছিলেন লেবানন, ফিরলেন লাশ হয়ে

১১

ভারতের রাজধানীতে বহুতল ভবন ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

১২

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

১৩

খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩৩৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

১৪

সাবেক ডিআইজি আতিকার স্বামীর সম্পদের হিসাব চায় দুদক

১৫

বিপিএল প্রতিবছর হওয়া উচিত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৬

মেঘ-বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েনি মানুষ!

১৭

শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে ১ লাখ করে টাকা দেবে সরকার

১৮

একটি সঠিক স্প্রে একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে

১৯

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

২০