বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন একটি দল— বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি (বিইউপি)।
আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির যাত্রা শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন প্রধানিয়া বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার রক্ষা, অর্থনৈতিক সাম্যতা নিশ্চিত করা এবং একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করা।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতির গৌরবময় ইতিহাস অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
দলের ঘোষিত মূলনীতি ও লক্ষ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে—
১. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সঠিকভাবে সংরক্ষণ, মূল্যায়ন ও সুরক্ষা করা।
২. জুলাই যোদ্ধা, চব্বিশের শহীদ ও আহতদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান ও যথাযথ মূল্যায়ন করা।
৩. বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যুগোপযোগী ও স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
৪. দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ধারণ করে জাতীয় পরিচয়কে আরও বিকশিত করা।
৫. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সর্বদা অটল ও দৃঢ় থাকা।
৬. গণতন্ত্রের চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
৭. মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও আইনের শাসন সুসংহত করা।
৮. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
৯. প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১০. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।
১১. নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় উন্নয়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১২. পরিবেশ রক্ষা ও বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।
১৩. তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী কাজে সম্পৃক্ত করা।
১৪. প্রবাসীদের সুরক্ষা, শ্রম অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
১৫. জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কার্যকর ও বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা।
১৬. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা।
১৭. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১৮. কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
দলের নেতারা জানান, বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি আগামী দিনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
আর/