সিরাজগঞ্জে সেচের কাজে ব্যবহৃত ডিজেল নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সীমিত বরাদ্দ, বাড়তি দাম ও চুরির আশঙ্কায় অনেকেই জমিতে তেল না রেখে বাড়িতে নিয়ে রাখছেন।
জেলার কামারখন্দসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কৃষকরা সেচের মেশিনে তেল ভরে কাজ শেষ করার পর আবার সেই তেল বের করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। পরদিন আবার নতুন করে তেল এনে ব্যবহার করছেন। মূলত তেল চুরির ভয় এবং প্রয়োজনমতো ডিজেল না পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কামারখন্দ উপজেলার কয়েলগাতি গ্রামের তরুণ কৃষক রঞ্জু বাবু। পরিবারের পাঁচ বিঘা জমিতে সেচের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। তবে জমিতে পানি দেওয়া যতটা না কঠিন, তার চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে ডিজেল সংগ্রহ করা।
রঞ্জু বাবু বলেন, আমার জীবনে সবচেয়ে কম দামে ডিজেল কিনেছি ৬৫ টাকায়। এখন ১১৫ টাকা দিয়েও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আবার কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন লাগে। পাঁচ বিঘার জন্য মাত্র পাঁচ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়। এতে বারবার যেতে হয়, খুব ভোগান্তি।
তিনি আরও বলেন, মেশিনে তেল রেখে দিলে চুরির ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যবহার শেষে তেল বের করে বাড়িতে রাখি। এই সময়ে তেল চুরি হলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। এজন্যই ঝামেলা করেও বাড়িতে নিয়েই রাখি।
কৃষক রঞ্জু বাবুর মতো একই চিত্র দেখা গেছে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। অনেক কৃষকই মেশিনে তেল রেখে নিরাপদ বোধ করছেন না। ফলে প্রতিদিনই তেল আনা-নেওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
ঝাঐল এলাকার কৃষক রহমান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ছে, আবার একবারে প্রয়োজনমতো পাওয়া যায় না। প্রত্যয়ন নিয়ে বারবার যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় কম ডিজেল সরবরাহ এবং খোলা বাজারে কিছু দোকানে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
তাদের আশঙ্কা, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে সেচ খরচ আরও বাড়বে। এতে কৃষিকাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
কৃষকরা জানান, সেচ পাম্প ছাড়াও পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও ধান মাড়াই মেশিন সব ক্ষেত্রেই ডিজেলের ব্যবহার বেশি। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে এসব সেবার ভাড়াও বেড়ে যায়।
তবে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে হবে কৃষকদের। এতে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ডিজেল সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যয়ন যাচাই-বাছাই করেই কৃষকদের দিচ্ছি। সেই সাথে কোনো কৃষক যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়টিও আমরা দেখছি।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ডিজেল সরবরাহ ও বণ্টন বিষয়ে সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে। কৃষকদের যেন ভোগান্তি কম হয়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়া ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।
এস/