MNB News
৩ নভেম্বর ২০২৫, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চীনের নতুন যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে!

সংগৃহীত ছবি

চীনের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান জে-৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ করছে। বর্তমান সময়ে চীনের প্রোটোটাইপ উড়ান ও পরীক্ষামূলক প্রদর্শন প্রথমবার জনসম্মুখে চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে প্রমাণ করছে। চীন তাদের আধুনিক যুদ্ধবিমান নির্মাণ, গবেষণা ও উন্নয়নে খুব অল্প সময় ব্যয় করছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে স্টেলথ প্রযুক্তির শীর্ষে থাকলেও, চীন দ্রুত অগ্রগতি দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন-এর নতুন তিন ইঞ্জিনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান স্টেলথ উড়ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ তৈরি ও উড্ডয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে বোঝা যায়, চীন আধুনিক যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সময়কে পিছনে রাখছে না।

নতুন প্রোটোটাইপে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়। এতে রয়েছে নতুন এয়ার ইনটেক ডিজাইন, পুনঃনকশাকৃত ল্যান্ডিং গিয়ার এবং নতুন এক্সহস্ট লেআউট। আগের ডেল্টা আকৃতির ডানা ও দুজন পাইলটের জন্য সাইড-বাই-সাইড ককপিট অখন্ড রয়েছে। আগের সংস্করণে রিসেসড এক্সহস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল ইঞ্জিন তাপপ্রবাহের ইনফ্রারেড সিগনেচার কমানোর জন্য, কিন্তু নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ফ্ল্যাট, টু-ডাইমেনশনাল থ্রাস্ট-ভেক্টরিং নোজল, যা উচ্চ কোণে ম্যানুভারিবিলিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে স্টেলথের কিছুটা ত্যাগ নির্দেশ করছে। ডাইভার্টারলেস সুপারসনিক ইনলেট ও সাইড-বাই-সাইড মেইন ল্যান্ডিং গিয়ার ইঙ্গিত দেয়, চীন অ্যারোডায়নামিক কার্যকারিতা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অভ্যন্তরীণ স্থান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

এ ধরনের দ্রুত পরিবর্তন আধুনিক যুদ্ধবিমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। সাধারণত একেকটি সংস্করণের পরিবর্তন আসতে বছরের পর বছর লাগে, কিন্তু চীন কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রোটোটাইপ উন্নত করছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে “লিপফ্রগিং” কৌশল বলছেন—অর্থাৎ ধাপে ধাপে নয়, এক লাফে অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে এগিয়ে গেছে। ভবিষ্যতের এসব বিমান ড্রোন বা মনুষ্যহীন বিমান নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে এবং কিছু ড্রোন নিজেও আক্রমণ সক্ষমতার অধিকারী হবে। জে-৩৬ও এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের এয়ার ভাইস মার্শাল জেমস বেক বলেন, পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার এখন যেকোনো আধুনিক বিমান বাহিনীর জন্য মৌলিক। তবে বিশ্বের অনেক বিমান বাহিনী, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও এখনো চতুর্থ প্রজন্মের বিমান ব্যবহার করছে, কারণ এরা বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং দ্রুত প্রস্তুত রাখা যায়।

বেক আরও বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশ কতটা কঠিন। এ বাস্তবতায় ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রয়োজন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় ড্রোন সহযোগিতা, দীর্ঘ পাল্লা এবং উন্নত স্টেলথ বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে। তবে এই ধরনের বিমান তৈরির জন্য দশকেরও বেশি সময় প্রয়োজন।

চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখায় তারা “ডিসরাপটিভ টেকনোলজি” বা বিপ্লবী প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। পুরনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন কনসেপ্টে বিনিয়োগ যুদ্ধের ধরন ও কৌশলগত সুবিধা বদলে দিতে পারে। যদি চীন দ্রুত ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার মাঠে নামাতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা সংখ্যায় নয়, প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দিতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। এফ–২২ ও এফ–৩৫ ফাইটারগুলোর ধারাবাহিক আপগ্রেড হচ্ছে। এনজিএডি বা নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স প্রকল্পের আওতায় নতুন সেন্সর, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, এইম-২৬০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সফটওয়্যার আপডেট যুক্ত হচ্ছে। এফ–৩৫কেও “পঞ্চম প্রজন্ম প্লাস” সংস্করণে উন্নত করা হচ্ছে, যা ষষ্ঠ প্রজন্মের ৮০% সক্ষমতা প্রদান করবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, চীনের উৎপাদন ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে চীনের হাতে ৩০০-এর বেশি জে–২০ আছে এবং প্রতি আট দিনে একটি নতুন বিমান তৈরি হচ্ছে। চীনের লক্ষ্য বছরে জে–৩৫-এর ৫০টি ইউনিট উৎপাদন। যুক্তরাষ্ট্রের এফ–৩৫ উৎপাদন হার বছরে ১৪০টি হলেও, দুই–তিন বছরের মধ্যে চীনের পেছনে পড়তে পারে। চীনের বিমানশক্তি দক্ষিণ চীন সাগরের ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব, যা আঞ্চলিকভাবে তাদের সংখ্যাগত আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি চীনের দ্রুত উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ধীরগতি অবলম্বন করে এবং চীন তার নতুন প্রজন্মের বিমান প্রকল্পের গতি বাড়ায়, তবে আগামী প্রজন্মের আকাশ আধিপত্য হতে পারে এশীয় শক্তির, আমেরিকার নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই এই প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষেরই পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এশিয়া টাইমস।

আর/আ/

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

অবশেষে ২৫ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শাফিউলের মরদেহ

এবার সত্যিই প্রেম করছেন হলিউডের এই সুন্দরী!

নিজেদের আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলেছে ইরান

চরের মানুষের জন্য চালু হওয়া স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্সটি চলেনি একদিনও

২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ৯৬

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

’খাল খনন অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে’

যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

১০

ওপার বাংলার এই অভিনেত্রীকে ‘পরীমণির ফটোকপি’ বলছে দর্শক!

১১

জাতীয় নেতাদের অবদান ভুললে ভবিষ্যৎ ইতিহাস ক্ষমা করবে না: তারেক

১২

শিক্ষামন্ত্রীর পিএস অধ্যাপক সোহেল পেলেন মাউশির ডিজির দায়িত্ব

১৩

ঢামেক এলাকায় প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু

১৪

‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনার তারিখ নির্ধারিত হয়নি’

১৫

শঙ্কা উড়িয়ে ডিপিএলে খেলছে রূপগঞ্জ, থাকছেন মিরাজ-রাতুলরা

১৬

সিঙ্গাপুর থেকে মালায়েশিয়া নেওয়া হয়েছে মির্জা আব্বাসকে

১৭

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আব্দুন নাসের খান

১৮

হাইকোর্টের ৬৩ বেঞ্চ গঠন, রোববার থেকে চলবে বিচারকাজ

১৯

মিরপুরের উইকেটে চ্যালেঞ্জ দেখছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক

২০