সবুজ পাহাড়, নীল সমুদ্র, নির্ভেজাল বাতাস আর সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যতম উন্নত দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড। দেশটির জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং বাড়ির অস্বাভাবিক দামের কারণে সেখানকার বসবাস অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। ওয়েলিংটনের বাসিন্দা হেইডেন ফিশারের মতো অনেকেই ব্যয়বহুল বাজার খরচের কারণে দেশ ছাড়ছেন। নিউজিল্যান্ডের দুর্বল অর্থনীতির বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপনের আশায় নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন।
স্ট্যাটস এনজেড-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত এক বছরে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক দেশ ছেড়েছেন ৭৩ হাজার ৯০০ জন ,যা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছর নিউজিল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পারি জমিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন হাবের পরিচালক অ্যালান গ্যামলেন জানান, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে অস্ট্রেলিয়ার দিকে মানুষের প্রবাহ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিউজিল্যান্ড এই ‘মেধা পাচার’এর প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও অস্ট্রেলিয়া এতে লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, মাথাপিছু জিডিপিতে দুই দেশের পার্থক্যই এই প্রবণতার আসল কারন হয়ে দারিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় ৬৪ হাজার ৪০০ ডলার, নিউজিল্যান্ডে তা ৪৮ হাজার ডলার মাত্র।
এদিকে ২২ বছর বয়সী জেনিভিভ ফালটন চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়েলিংটন থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গিয়েছিলেন। যেখানে আগে তার ঘণ্টায় আয় ছিল ২২.৭০ ডলার, যা এখন তার আয় দ্বিগুণ। এতে তিনি কম সময় কাজ করেও তার পছন্দের ইলাস্ট্রেশনের পেশায় মন দিতে পারছেন। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রেরণাটুকু তার ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছেন। মেলবোর্নে দুই বছর আগে তার বোনকে জানান,‘এখানে কাজও বেশি, টাকাও অনেক বেশি।’
ঠিক একইভাবে, ঐতিহ্যবাহী সামোয়ান ট্যাটু শিল্পী টাইলা ভায়াউ বলেন, নিউজিল্যান্ডের শহর এখন আর আগের মত নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়ির দাম সেখানে এমন পর্যায়ে যে, সেখানে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব। তিনি এখন পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে স্থায়ী হয়েছেন। ‘অস্ট্রেলিয়ায় সুযোগ অনেক বেশি, বিশেষ করে পেশাগতভাবে।’
এদিকে এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ড থেকে যারা অস্ট্রেলিয়ায় যান তাদের ৮০ শতাংশই অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে বসবাস করেন। এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিউজিল্যান্ডের প্রবাসীরা থাকেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন ও গোল্ড কোস্টে শহরে, এবং তাদের পছন্দের শহরের মধ্যে রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনি। সেই হেইডেন ফিশার বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সুন্দর দেশ, তবে সেই সৌন্দর্য তো আর বাড়ি ভাড়ার বিল পরিশোধ করে দিবে না।
আ/আর/