MNB News
১৭ মে ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে?

কোরবানি একটি ইবাদত। এই ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তায়ালা কোরবানি শুধু তার জন্যই করার আদেশ দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তার কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম। (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ দিয়েছেন, যে সকল মুশরিক আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই করে তাদের যেন জানিয়ে দেওয়া হয়, আমরা তাদের বিরোধী। নামাজ, কোরবানি শুধু তার নামেই হবে, যার কোনো শরিক নেই। এ কথাই আল্লাহ তায়ালা সূরা কাউসারে বলেছেন, তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কোরবানি করো। (সুরা কাউসার, আয়াত : ২)

অর্থাৎ, নামাজ, কোরবানি সব ইবাদতই আল্লাহ তায়ালার জন্য আদায় করতে হবে। কারণ, মুশরিকরা প্রতিমার জন্য প্রার্থনা করে, পশু জবাই করে। এর বিপরীতে মুসলিমদের সব কাজে ইখলাস অবলম্বন করতে হবে।

ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই করার সময় শুরু হয় ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে। সুতরাং এলাকার ঈদের নামাজ শেষ হবার পর কোরবানি করতে হবে। ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা আদায় হবে না। জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) কোরবানির দিন নামাজ আদায় করেন, তারপর খুতবা দেন। তারপর জবেহ করেন এবং তিনি বলেন, নামাজের পূর্বে যে ব্যক্তি জবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবেহ করতে হবে এবং যে জবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার জবেহ করা উচিত। (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)

তবে যদি এমন কোন প্রত্যন্ত গ্রাম হয় যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না বা এমন কোনো এলাকা হয় যে এলাকায় ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয় এমন এলাকায় ঈদের দিন ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে।

হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানির সময় মূলত ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। তবে যেসব শহর বা বড় গ্রামে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত বিদ্যমান থাকে, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয়। আর যেসব ছোট গ্রামে বা জনপদে ঈদের নামাজ পড়ার আইনি বা শারীয় বাধ্যবাধকতা নেই কিংবা যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই কোরবানি করা যাবে। এক্ষেত্রে ঈদের নামাজের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি নয়।

মূলত শহর বা বড় জনপদে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা ছোট গ্রাম যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানকার বাসিন্দারা ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন।

এস/

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা বলল ভারত

সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখা খোলা শনিবার

ভারতে ফিরলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে

গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে রাজধানীতে দগ্ধ ৬

প্রধানমন্ত্রীর মানহানি: লক্ষ্মীপুরে শ্রমিকশক্তির নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

বাংলাদেশে দুই প্রতিনিধি পাঠানোর কারণ জানাল আইসিসি

মোহনীয় সাজের নেপথ্যের গল্প বললেন ফারিয়া

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি বরং প্রকৃত সমস্যা আড়াল হয়েছে : সিপিডি

হাসপাতালে ফজলে করিম, পেছাল অভিযোগ গঠন শুনানি

আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখছে যে প্রতিপক্ষ!

১০

সিরাজগঞ্জে বাস-সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ৩

১১

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি, পাটুরিয়া রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

১২

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩ ডাকাত

১৩

ট্রেনে উত্তরবঙ্গ রুটে নাজেহাল অবস্থা, ভুগছেন যাত্রীরা

১৪

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট ছাড়াল ১৫ কিলোমিটার

১৫

জামালপুরে মহাসড়ক অবরোধের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

১৬

হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৫৪৫

১৭

ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ৭ দিন বন্ধ থাকবে

১৮

ঝড়ের কবলে চায়না সাউদার্ন গেল কলকাতায়, চট্টগ্রামের বিমান ফিরল চট্টগ্রামে

১৯

তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন?

২০