MNB News
১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৫২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন মোড় শেখ হাসিনা ও ভারত জড়িত!

সংগৃহীত ছবি

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৬ বছর পর গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে হস্তান্তর করেছে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা প্রাথমিক নথিপত্র প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে দেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, প্রতিবেদন গ্রহণকালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পিলখানার ঘটনা নিয়ে যে অস্বচ্ছতা ছিল, এই রিপোর্ট তা পরিষ্কার করবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ঘটনাটির নিষ্ঠুরতা এবং জটিলতা বিবেচনায় কমিশনের এই অনুসন্ধান জাতির জন্য শিক্ষণীয় ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে।

কমিশনপ্রধান ফজলুর রহমান জানান, দেড় দশকের পুরোনো একটি ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা কঠিন হলেও প্রতিবেদনটিকে নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশত্যাগ করেছে এবং বহু প্রমাণ নষ্ট হয়েছে—তবুও সাক্ষ্য, নথি ও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারও বক্তব্য টানা আট ঘণ্টা পর্যন্ত শোনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনসাধারণের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কমিশন চেষ্টা করেছে এবং ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী অবস্থান নেওয়ার পরও অভিযান কেন হয়নি—সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে।

ফজলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে এ ঘটনায় ‘বহিঃশক্তি’ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কিছু অংশের প্রভাব খাটানোর প্রমাণও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, বিদ্রোহের পেছনে পরিকল্পিত নীলনকশা ছিল। তার ভাষায়, তৎকালীন এক সংসদ সদস্য ঘটনাটির সমন্বয় করেছেন বলে তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ অভিযুক্তদের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং একটি ছোট দল পিলখানা থেকে বের হওয়ার সময় বড় একটি মিছিলে রূপ নেয়। কমিশনের মতে, পুরো ঘটনাই তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ‘সম্মতি’ নিয়ে ঘটেছে বলে তারা ধারণা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পর্যন্ত বিবেচনায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের ব্যর্থতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। কিছু গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকের অদক্ষ ব্যবহারের কথাও এসেছে প্রতিবেদনে।

কমিশন আরও জানায়, পিলখানায় যেসব বিডিআর সদস্যের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বৈঠক করেছিলেন, তাদের পরিচয় সংরক্ষণ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশন তাদের ভবিষ্যৎ সুপারিশও জানায়—যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীতে এ ধরনের ঘটনা রোধ, বিচারের নিশ্চয়তা এবং কাঠামোগত সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনপ্রধান আরও জানান, তাদের তদন্তে প্রতিবেশী ভারতের সংশ্লিষ্টতার উপাদান পাওয়া গেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ে ভারত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চাইত। এ বিষয়ে সরকারের কাছে ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য চাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী অভিযান চালায়নি কেন—এ বিষয়ে কমিশনপ্রধান বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ কমিশনকে জানিয়েছেন যে, সেনা অ্যানাকশন নিলে পরিস্থিতিতে ভারতীয় হস্তক্ষেপ হতে পারত বলে তার আশঙ্কা ছিল।

কারা সংশ্লিষ্ট—জানতে চাইলে কমিশন জানায়, রাজনৈতিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বেশ কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের বিরুদ্ধে এখনো মামলা হয়নি বলে নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তবে প্রতিবেদনের কিছু অংশে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান—যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়। কমিশন আরও জানায়, গুম হওয়া পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে আসলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল—তাদের নিখোঁজ করা হয়নি।

কমিশনের দাবি, ২০০৯ সালের ঘটনাকালে ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে ৬৭ জনের গতিবিধির মিল পাওয়া যায়নি।

পটভূমি

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত বিদ্রোহে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৮ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। নিহত হন আরও কয়েকজন পরিবার-সদস্য এবং বেসামরিক লোকজন। পরে গঠিত সরকারি ও সামরিক উভয় তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার প্রস্তুতি বহু আগ থেকেই চলছিল এবং এতে কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হননি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আর/

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওপার বাংলার এই অভিনেত্রীকে ‘পরীমণির ফটোকপি’ বলছে দর্শক!

জাতীয় নেতাদের অবদান ভুললে ভবিষ্যৎ ইতিহাস ক্ষমা করবে না: তারেক

শিক্ষামন্ত্রীর পিএস অধ্যাপক সোহেল পেলেন মাউশির ডিজির দায়িত্ব

ঢামেক এলাকায় প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু

‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনার তারিখ নির্ধারিত হয়নি’

শঙ্কা উড়িয়ে ডিপিএলে খেলছে রূপগঞ্জ, থাকছেন মিরাজ-রাতুলরা

সিঙ্গাপুর থেকে মালায়েশিয়া নেওয়া হয়েছে মির্জা আব্বাসকে

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আব্দুন নাসের খান

হাইকোর্টের ৬৩ বেঞ্চ গঠন, রোববার থেকে চলবে বিচারকাজ

মিরপুরের উইকেটে চ্যালেঞ্জ দেখছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক

১০

বাংলাদেশের টেবিল টেনিসে জাপানি কোচ

১১

অকটেন-পেট্রোলের মজুত যথেষ্ট, দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না

১২

বিএনপি নেতা বললেন, মারধরের শিকার ব্যক্তির শরীরে মুরগির রক্ত মাখানো হয়েছে

১৩

বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট

১৪

ক্রেতা সেজে তেল কিনতে যান ডিজিএফআইয়ের তিন সদস্য

১৫

টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৬

হাওরে বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মৃত্যু

১৭

রাম সাগরের কিংবদন্তি থেকে উপকূলীয় বাংলাদেশের সুপেয় পানির সংকট

১৮

মধ‌্যপ্রা‌চ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হ‌লে বিপদ দেখ‌ছেন তথ‌্যমন্ত্রী

১৯

মাথা ঘুরে গাছের উপর ঝুলে ছিলেন বৃদ্ধ, ৯৯৯-এর ফোনে উদ্ধার

২০