মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে সাগরের গভীরে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন শনাক্ত হয়। উপকূলরেখা থেকে কেন্দ্র অনেক দূরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এর কম্পন টের পাওয়া যায়নি।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি, যা উদ্ধৃত করেছে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে সংঘটিত কম্পনের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২০.৫৬° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.৩১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে; ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
গত সপ্তাহজুড়েই দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ নভেম্বর বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এলাকায় ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। একইভাবে ১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে কক্সবাজার, উখিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলে মানুষ দুলুনি অনুভব করার কথা জানান।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) তাদের তথ্যসূত্রে জানায়, ওই রাতের কম্পনটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯ এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল মিয়ানমার ভূভাগে।
পরপর দুটি ভূমিকম্পের পরও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর মেলেনি। মিয়ানমারে উৎপন্ন কম্পনের স্থায়িত্ব স্থানীয়দের ভাষ্যমতে কয়েক সেকেন্ড ছিল। তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সর্বশেষ কম্পনে বাংলাদেশের কোথাও দুলুনি অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বহু জেলা কেঁপে ওঠে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা হয়। এতে বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। একইসঙ্গে ২২, ২৩ ও ২৬ নভেম্বর আরও কয়েক দফা হালকা ভূমিকম্প দেশে অনুভূত হয়।
আর/