দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক দর্শন হলো উত্তেজনার বদলে শান্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া।
গতকাল মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ও সুলতানপুর ইউনিয়নে পদযাত্রা ও গণসংযোগে তিনি বলেন, “যদি কেউ আমাদের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করে বা পাথর নিক্ষেপ করে, আমরা তার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াব। কেউ কটূক্তি করলেও আমরা শুভেচ্ছা জানাব। মতবিরোধের প্রতিক্রিয়া হবে শান্তস্বভাবী—এটাই আমাদের অঙ্গীকার। বাকি সব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়াতে এবং সংগঠনকে ঐক্যের পথেই এগিয়ে নিতে হবে।
হাসনাত আরও বলেন, “গুলির মুখেও আমরা ধৈর্য হারাব না। তবু কখনোই কর্মীদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই। গত সাড়ে এক যুগের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সংকটের মুহূর্তে কে কাকে ফেলে চলে গেছে।”
নিজেকে সাধারণ পরিবারের সন্তান পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে বলে—আমি নাকি মাত্র ৫০০ ভোট পাব! অথচ মাত্র ৯ মাস বয়সী একটি দল যদি কোনো পারিবারিক প্রভাব, টাকার দাপট কিংবা বিদেশ ফেরত পরিচয় ছাড়াই এত ভোট অর্জন করতে পারে—এটাই তো বড় সাফল্য। আমি বড় বংশের কেউ নই, ধনবানও নই, বিদেশে পড়ার সুযোগও পাইনি; এ জনগণের মাঝ থেকেই উঠে এসেছি।”
ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ করেন, “নির্বাচনের সময় ছবি তুলে জনপ্রিয়তা দেখানোর চেষ্টা যারা করে, তাদের ভালোভাবে মনে রাখবেন। তাদের অতীত আচরণ ও বর্তমান ভূমিকা লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, প্রকৃতপক্ষে কে জনগণের পাশে থাকে। ১৭ বছরের রাজনীতিতে আমরা দেখেছি—ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কারা ছিল। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকেও আমরা রাজপথে দেখেছি। অথচ অনেকেই, যারা মাঠে ছিলেন না, এখন নানা ধরনের লেবেল লাগাচ্ছেন এবং বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন।”
দিবসজুড়ে চলা কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি শহীদ কাদির হোসেন সোহাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন।
এ ছাড়া খাদঘর, সূর্যপুর, সাহাড়পাড়, ফুলতলি, নূয়াগাঁও, সাইতলা বাজার, বরাট স্ট্যান্ড, ডাণী, খিড়াইকান্দি, বক্রিকান্দি, কূরছাপ, আতাপুর ও সূরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়।
আর/