ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত টন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের পাশে অবস্থিত কার্গো ভিলেজে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ডলারের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২.১৩ টাকা) এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, “কার্গো এক্সপ্রেস টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, পণ্যবাহী বিমান ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধাক্কা খাবে।”
কার্গো ভিলেজে সাধারণত রপ্তানি বা আমদানির জন্য প্রস্তুত পণ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয়। আমদানিকারক বা তাদের প্রতিনিধিরা শুল্কায়ন শেষে এখান থেকে পণ্য ছাড় করেন। পচনশীল পণ্য যেমন ফলমূল, সবজি ছাড়াও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে পাঠানো হয়। তবে শুল্ক প্রক্রিয়া বিলম্ব বা বিমান স্পেস সংকটের কারণে অনেক চালান কয়েক দিন পর্যন্ত এখানে থাকে।
আরএমকে গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন, “এই ঘটনায় অসংখ্য আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঠিক কার কার পণ্য নষ্ট হয়েছে তা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর জানা যাবে। বিমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতেও কিছুটা সময় লাগবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে শুল্ক বিভাগ, বিভিন্ন বিমান সংস্থা এবং বেসরকারি লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আগুনে কেবল পণ্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিও পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও)-এর নীতিমালা অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
বাণিজ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, এই অগ্নিকাণ্ড আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতে লিড টাইম সংকট তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
আর/