MNB News
১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি দাবি ব্যবসায়ীদের

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত টন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের পাশে অবস্থিত কার্গো ভিলেজে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ডলারের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২.১৩ টাকা) এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, “কার্গো এক্সপ্রেস টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, পণ্যবাহী বিমান ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধাক্কা খাবে।”

কার্গো ভিলেজে সাধারণত রপ্তানি বা আমদানির জন্য প্রস্তুত পণ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয়। আমদানিকারক বা তাদের প্রতিনিধিরা শুল্কায়ন শেষে এখান থেকে পণ্য ছাড় করেন। পচনশীল পণ্য যেমন ফলমূল, সবজি ছাড়াও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে পাঠানো হয়। তবে শুল্ক প্রক্রিয়া বিলম্ব বা বিমান স্পেস সংকটের কারণে অনেক চালান কয়েক দিন পর্যন্ত এখানে থাকে।

আরএমকে গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন, “এই ঘটনায় অসংখ্য আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঠিক কার কার পণ্য নষ্ট হয়েছে তা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর জানা যাবে। বিমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতেও কিছুটা সময় লাগবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে শুল্ক বিভাগ, বিভিন্ন বিমান সংস্থা এবং বেসরকারি লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আগুনে কেবল পণ্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিও পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও)-এর নীতিমালা অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

বাণিজ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, এই অগ্নিকাণ্ড আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতে লিড টাইম সংকট তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

আর/

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনেক সময় খুব ছোট সমস্যাকেও বড় করে দেখি : অমিতাভ বচ্চন

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ক্যালিব্রেশন সেবা দিতে চায় জার্মানি

তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৪

গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন

ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়ে চড় খেলেন সংগীতশিল্পী!

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি,পাম্পগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ লাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা, চলছে পাকিস্তানে প্রস্তুতি

১০

কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

১১

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

১২

অবশেষে ২৫ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শাফিউলের মরদেহ

১৩

এবার সত্যিই প্রেম করছেন হলিউডের এই সুন্দরী!

১৪

নিজেদের আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলেছে ইরান

১৫

চরের মানুষের জন্য চালু হওয়া স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্সটি চলেনি একদিনও

১৬

২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ৯৬

১৭

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

১৮

’খাল খনন অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে’

১৯

যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

২০