২৫ বছর পর আবারও টেলিভিশনের পর্দায় ফিরেছে ভারতের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কিউকি সাঁস ভি কাভি বহু থি’। চলতি বছরের জুলাই মাসে সম্প্রচার শুরু হওয়া নতুন সংস্করণটি নস্টালজিয়ায় ভরিয়ে তুললেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এক বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি—বিল গেটস।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রচারিত পর্বে দেখা যায়, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবক বিল গেটস ভিডিও কলে কথা বলছেন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র তুলসীর সঙ্গে, যেটি অভিনয় করছেন অভিনেত্রী ও ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। এ সময় তারা মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, গেটস ফাউন্ডেশন বহু বছর ধরে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে সরকারকে সহযোগিতা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিনোদনমূলক মাধ্যম ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। আর সেই লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিককে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
দৃশ্যটির শুরুতেই বিল গেটসকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “নমস্তে তুলসীজি”, সঙ্গে হাস্যরস করে যোগ করেন, “ঠিক বলেছি তো?”। তুলসী চরিত্রে স্মৃতি ইরানি উত্তর দেন, “হ্যাঁ, একদম ঠিক!”—যা দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জিওস্টার এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের মতো গুরুতর বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা গল্প বলার মাধ্যম ব্যবহার করছে।
জিওস্টারের প্রযোজক সুমন্ত বোস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, গল্প শুধু বিনোদনের জন্য নয়—এটি সচেতনতা সৃষ্টি করতে, অনুপ্রেরণা দিতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”
তিনি আরও জানান, কাহিনীর ভেতর সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে তারা এমন একটি প্রভাব সৃষ্টি করতে চান যা দর্শকের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন ঘটাবে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিল গেটস ধারাবাহিকটির মোট তিনটি পর্বে উপস্থিত থাকবেন।
কলামিস্ট শৈলজার ভাষায়, “দ্বিতীয়বার পর্দায় ফেরার পর সিরিয়ালটি ওটিটি যুগের প্রচুর কনটেন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। আগের মতো জনপ্রিয়তা না পেলেও বিল গেটসের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি সিরিয়ালটিকে নতুন করে আলোচনায় ফিরিয়েছে।”
মাত্র একদিনে পর্বটির চার মিনিটের প্রোমো ইনস্টাগ্রামে ছয় মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছে। নেটিজেনরা মন্তব্যের ঘরে বিস্ময় আর আনন্দ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন— “এটাই হয়তো ভারতের টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত!”
আর/