কুমিল্লার চান্দিনায় স্বর্ণালঙ্কার ও গচ্ছিত টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এক জুয়েলারি দোকানের মালিক। প্রায় ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তার দোকান। এতে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নতুন বাজারে। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর নাম নারায়ণ কর্মকার (ডাকনাম প্রদীপ)। তিনি স্থানীয় ‘পর্ষীয়া জুয়েলার্স’-এর মালিক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নারায়ণ কর্মকার দোকান বন্ধ করে প্রায় ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকে দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যেই ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে (প্রতি ভরি ২ লাখ টাকার ওপরে) প্রলোভনে পড়ে ওই ব্যবসায়ী এই অপকর্মে জড়ান।
কৈলাইন গ্রামের শরীফ নামের এক ভুক্তভোগী জানান, “নারায়ণ কর্মকার আমাদের এলাকারই মানুষ। প্রায় দুই দশক ধরে এই বাজারে দোকান চালাচ্ছিলেন। আমি তার গ্যারান্টি হয়ে ৪ লাখ টাকা ঋণ তুলেছিলাম, যা সে ফেরত দেয়নি। পাশাপাশি আমার স্ত্রীর ২ ভরি স্বর্ণও তার কাছে জমা ছিল। সমিতির টাকাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে সে।”
বুধবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়—‘পর্ষীয়া জুয়েলার্স’-এর শাটার ও কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ। আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানটি গত ১০ দিন ধরে বন্ধ। নারায়ণ কর্মকারের বাড়িও ফাঁকা, কেউ সেখানে নেই। তবে স্থানীয়রা জানান, তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।
পার্শ্ববর্তী কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের ব্যবসায়ী বরুণ সাহা বলেন, “আমরা দৈনিক সঞ্চয় সমিতির সদস্য ছিলাম। আমি প্রতিদিন ৭৫০ টাকা জমা দিতাম। আমার ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা সে আত্মসাৎ করেছে। আমাদের ৫১ জনের সমিতির মোট টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।”
এ ছাড়া ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের ৩ লাখ ৩০ হাজার, আবুল হোসেনের ৩ লাখ ৫০ হাজার, এরশাদ আলীর ৫ লাখ, বেলাল গাজীর ১ লাখ ৪২ হাজারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত নারায়ণ কর্মকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “এখনও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আর/