আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ নভেম্বর ২০২৫, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সব যাত্রী: বেঁচে যান একা, কেমন আছেন তিনি

ভারতের আহমেদাবাদে গত ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৪১ জন মানুষ মারা যান। অলৌককিভাবে সেই দুর্ঘটনা থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে বেঁচে যান বিমানযাত্রী বিশ্বকুমার রমেশ। তিনি কেমন আছেন সেই গল্প জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে।

 

রমেশ জানিয়েছেন, নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান’ মানুষ হিসেবে মনে করেন তিনি। কিন্তু বেঁচে গেলেও এখনো শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

নিজের বেঁচে যাওয়াকে ‘অলৌকিক’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে রমেশ জানিয়েছেন জীবনের প্রায় সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন। বিশেষ করে আপন ভাই অজয়ের জন্য দুঃখ হয় তার। অজয় সেই একই বিমানে কয়েকটি আসন দূরে ছিলেন। মারা যাওয়া ২৪১ যাত্রীর মধ্যে আছেন অজয়ও।

দুর্ঘটনার পর রমেশ যুক্তরাজ্যে ফিরে যান বলে সোমবার (৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে রমেশ আঘাত জনিত মানসিক চাপে আছেন। এতে করে নিজের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঠিকমতো এখনো কথা বলতে পারেন না তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রমেশ বিবিসিকে বলেন, “আমি একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, আমি বিশ্বাস করতে পারি না। এটি ছিল অলৌকিক ঘটনা। দুর্ঘটনায় আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি। সে ছিল আমার মেরুদণ্ড। গত কয়েক বছর সে আমাকে সবসময় সহায়তা করেছে।”

“এখন যেন আমি শেষ। আমি রুমে একা বসে থাকি। স্ত্রীর সঙ্গে, আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলি না। আমি বাড়িতে একা থাকতে পছন্দ করি।”

“ওই দুর্ঘটনার পর, আমার জন্য সবকিছু খুব কঠিন হয়ে গেছে। শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আমি। আমার পরিবারও বিপর্যস্ত। আমারও মা গত চার মাস ধরে একা বসে থাকেন। কারও সঙ্গে কথা বলেন না। আমিও কারও সঙ্গে কথা বলি না। আমার কারও সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না।”

“আমি খুব বেশি কথা বলতেও পারি না। আমি সারারাত শুধু ভাবি, মানসিকভাবে আমি খারাপ অবস্থায় আছি। পুরো পরিবারের জন্য প্রত্যেকটি দিন বেদনার।”

রমেশ বিমানটির জরুরি বহির্গমন দরজার পাশের আসনে ছিলেন। যখন এটি বিধ্বস্ত হয় তখন তিনি ছিটকে বাইরে পড়ে যান। তিনি নিজে ওই সময় হেঁটে দুর্ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসেন।

তবে তিনি পা, কাঁধ, হাঁটু এবং শরীরের পেছন দিকে এখন ব্যথা অনুভব করেন। এ কারণে দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। এছাড়া গাড়িও চালাতে পারেন না। ঠিক মতো হাঁটতে পারেন না।

রমেশ বলেন, “যখন আমি হাঁটি, ঠিক মতো হাঁটতে পারি না। স্ত্রীর সহায়তা নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটি।”

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং, বেড়েছে হাতপাখার কদর

প্রধানমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

হজ ফরজ হওয়ার পরও শুধু ওমরাহ করা কি ঠিক?

মুক্তির আগেই ‘কিং’ সিনেমার আয় ২৫০ কোটি

ভোলায় বোট থেকে ৪ হাজার ২০০ লিটার পেট্রোল জব্দ

জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছে গ্রাম

জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো আলোচনা চলছে

প্রশ্নপত্র ফাঁসে তারা চেষ্টা করলে আমরাও করবো : শিক্ষামন্ত্রী

অনেক সময় খুব ছোট সমস্যাকেও বড় করে দেখি : অমিতাভ বচ্চন

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ক্যালিব্রেশন সেবা দিতে চায় জার্মানি

১০

তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

১১

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৪

১২

গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

১৩

আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন

১৫

ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়ে চড় খেলেন সংগীতশিল্পী!

১৬

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি,পাম্পগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ লাইন

১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা, চলছে পাকিস্তানে প্রস্তুতি

১৮

কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

১৯

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

২০