বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হৃদয়ের বন্ধন হিসেবে বহুদিনের।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতির মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চিকিৎসকদের সতর্কতা উপেক্ষা করেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন—কারণ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের টান রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফিরে তিনি মানসিকভাবে আরও শক্ত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক বহু দিনের ঐতিহ্য।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ভবিষ্যতে জনগণের রায় পেলে যোগ্য সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের দেশের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি জানান, দল ইতোমধ্যে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ নামের একটি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে।
বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ফেলেছে। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এখন অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমেই দেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি. আহসানসহ সেনা, নৌ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজের মতামত তুলে ধরেন।
আর/