MNB News
৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গায় ফের শৈত্যপ্রবাহ, সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকার আশঙ্কা

মাত্র একদিনের বিরতির পর আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হিমেল বাতাস ও তীব্র ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন পুনরায় বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীকে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। এর আগে টানা চার দিন জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) এক দিনের জন্য শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হলেও আজ থেকে আবারও জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রায় সপ্তাহজুড়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি জানান, আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।

এদিকে, গতকাল রোববার সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জেলার জনপদগুলো জবুথবু হয়ে পড়ে। হালকা কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার সকালে সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও ঠান্ডার দাপট তেমন কমেনি।

কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার এলাকায় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, শীতে ভোরে দাঁড়িয়ে থাকলেই হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কাজ থাকুক বা না থাকুক, বের হতেই হয়। না গেলে পরিবার না খেয়ে থাকবে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার এক নির্মাণশ্রমিক সোহাগ হোসেন জানান, শীতের কারণে অনেক জায়গায় কাজ বন্ধ থাকে। কুয়াশার মধ্যে কাজে নামা কঠিন। তারপরও সংসারের কথা ভেবে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

অপরদিকে, তীব্র শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরের একাধিক স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল, শীতের কাপড়সহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে শীতার্ত মানুষদের খুঁজে খুঁজে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে কিছুটা হলেও শীতার্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং, বেড়েছে হাতপাখার কদর

প্রধানমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

হজ ফরজ হওয়ার পরও শুধু ওমরাহ করা কি ঠিক?

মুক্তির আগেই ‘কিং’ সিনেমার আয় ২৫০ কোটি

ভোলায় বোট থেকে ৪ হাজার ২০০ লিটার পেট্রোল জব্দ

জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছে গ্রাম

জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো আলোচনা চলছে

প্রশ্নপত্র ফাঁসে তারা চেষ্টা করলে আমরাও করবো : শিক্ষামন্ত্রী

অনেক সময় খুব ছোট সমস্যাকেও বড় করে দেখি : অমিতাভ বচ্চন

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ক্যালিব্রেশন সেবা দিতে চায় জার্মানি

১০

তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

১১

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৪

১২

গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

১৩

আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন

১৫

ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়ে চড় খেলেন সংগীতশিল্পী!

১৬

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি,পাম্পগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ লাইন

১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা, চলছে পাকিস্তানে প্রস্তুতি

১৮

কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

১৯

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

২০