ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজধানীর ঢাকা-৫ আসনের চারটি কেন্দ্রে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় চার কেন্দ্রে গড়ে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণের এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা।
ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন ভোটাররা। কোনো কোনো কেন্দ্রে ফজরের পর থেকেই ভোটাররা আসতে শুরু করেন। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভোটারের উপস্থিতি।
রাজধানীর ডেমরা হাজিনগরের হাজী মোয়াজ্জেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট চারটি কেন্দ্র। এরমধ্যে পুরুষদের জন্য দুটি এবং নারীদের জন্য দুটি কেন্দ্র। ৪ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৯ হাজার ১৮৩ জন। এরমধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭১০ জন। যা প্রায় ৩০ শতাংশ। এখনো অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
নারী-১ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার পারভেজ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ১৫৯ জন। এরমধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।
নারী-২ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৫৫০ জন।
পুরুষ-১ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. ইকবাল বাহার সুমন গণমাধ্যমকে বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ২৪১ ভোটারের মধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭৩০ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটারের উপস্থিতি ভালো, আশা করি, শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ভালো একটা হার হবে।
পুরুষ-২ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জাহিদুল আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, এ কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ২২৪ জন। এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮৩০ জন। ভোটারদের প্রচুর চাপ রয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর যাত্রাবাড়ীর মাদরাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫৫৫ জনের মধ্যে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৭০০ জন।
এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এ বি এম মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন। ছয়টি বুথের মাধ্যমে আমরা ভোটগ্রহণ করছি।
ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ডে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা, কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড।
ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক প্রতীক), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙল প্রতীক), লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম (আনারস প্রতীক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি প্রতীক), সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি (কাচি প্রতীক), লিবারেল ডে হুমায়ূন কবির (ছাতা প্রতীক) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম (ডাব প্রতীক)।
এস/