কারও কাছে নিজের দেশ বা ভূমি থেকে মক্কায় গিয়ে— আবার ফিরে আসা পরিমাণ সম্পদ ও সামর্থ্য থাকলে হজ ফরজ হয়। কারো ওপর হজ ফরজ হলে তার জন্য যত দ্রুত সম্ভব হজ মৌসুমে হজ পালন করে নেওয়া।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়। কারণ যেকোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থা না থাকতে পারে; অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৩৩)
কারো ওপর হজ ফরজ হলে তার জন্য ফরজ হজ পালন না করে শুধু ওমরাহ পালন করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা উত্তম। তাই কারও ওপর হজ ফরজ হলে তা না করে ওমরাহ করা উচিত নয়। কারণ, হজ ফরজ হওয়ার পর তা দ্রুত আদায় করার তাগিদ এসেছে হাদিসে। আলেমরা বিলম্বে হজ আদায়কারীদের গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
মনে রাখতে হবে জীবন অস্থির, মৃত্যু অনিশ্চিত। আজ সামর্থ্য আছে, কাল নাও থাকতে পারে। আজ স্বাস্থ্য ভালো, কাল হয়তো হুইলচেয়ারেই বসে থাকতে হবে। তাই হজ ফরজ হলে, দেরি নয়; কিংবা এমনটিও বলা নয় যে, ‘ইনশাআল্লাহ পরের বছর যাব’— কারণ এই দেরি বিপদ ডেকে আনতে পারে।
যদি আল্লাহ তায়ালা কাউকে হজ করার সামর্থ্য দেন, আর তিনি যদি হজ না করে ওমরাহ করতে যান তবে এটি একটি ফরজ দায়িত্বকে পেছনে ঠেলে দেওয়া।
তবে যদি কারও ওপর হজ ফরজ হওয়ার আগে তিনি ওমরাহ পালন করেন, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই বরং এটি ইবাদত হিসেবে মুস্তাহাব বা উত্তম।
তাই হজ ফরজ হলে প্রথম কর্তব্য হজ আদায় করা। ওমরাহ একটি উত্তম ইবাদত, কিন্তু এটি ফরজ হজের বিকল্প নয়। তাই ফরজ হজ বাদ রেখে ওমরাহ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।
এস/