রাজধানীর খুচরা বাজারে মুরগি ও মাছের দামে সামান্য তারতম্য হলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তি আসেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, আর পাঙাশ মাছের দাম ১৮০ টাকা কেজিতে স্থির রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লারের দাম সামান্য কমলেও অন্যান্য মুরগি ও মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে উত্তরা আজমপুর ও মালিবাগ-বাড্ডা এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সোনালি ২৮০, পাকিস্তানি ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজিতে। দেশি পাতিহাঁসও বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।
আজমপুর বাজারের বিক্রেতা সালেক ইসলাম জানান, “গত সপ্তাহে পাইকারি দামে ব্রয়লার কেজিপ্রতি ছিল ১৮০ টাকার ওপরে। এখন সেটা ১৫৫–১৬০ টাকায় নেমেছে, তাই খুচরায় আমরা ১৭০ টাকায় দিচ্ছি। তবে খাদ্য ও পরিবহন খরচ না কমলে দাম আর নামবে না।”
মালিবাগের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, “দেশি ও সোনালি মুরগির দাম অনেক দিন ধরেই অপরিবর্তিত। ক্রেতারা এখন ব্রয়লারের দিকেই ঝুঁকছেন কারণ তুলনামূলকভাবে সেটিই সস্তা।”
ক্রেতারাও বলছেন, টানা মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন ব্রয়লারই একমাত্র বিকল্প। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আজম খান বলেন, “সোনালি বা দেশি মুরগি এখন নাগালের বাইরে। ছোট একটা সোনালি মুরগি কিনতেই ৩৫০ টাকা লাগে। তাই ব্রয়লারই ভরসা।”
অন্যদিকে মাছের বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। রুই মাছ আকারভেদে কেজিপ্রতি ৩৫০–৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০–৪৫০, শিং ৫০০–৫৫০, চাষের মাগুর ৫০০, কৈ ২০০–২৫০, পাঙাশ ১৮০–২০০ এবং তেলাপিয়া ১৫০–২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খামার ও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় দাম কমানো যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই মাছের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
বাজারে আসা ক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, “এখন তো ব্রয়লার আর পাঙাশের দামে কোনো তফাৎ নেই। আগে মুরগি কিছুটা সস্তা ছিল, এখন দুটোই ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। মনে হয় সব কিছুর দাম সমান হয়ে গেছে।”
নাজমুল হক নামের আরেক ক্রেতা বলেন, “আগে ব্রয়লার কিনতাম কারণ দাম কম ছিল, এখন দেখি মাছের দামের কাছাকাছি। যেটাই নেই, পকেট থেকে খরচ এক।”
এদিকে, রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে এবং খাসির মাংস ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায়।
আর/