চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস ২৬ দিনে (১ জুলাই থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত) দেশে এসেছে প্রায় ৯৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ পৌনে ১০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, অক্টোবর মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে এসেছে ২১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার (প্রায় ২.১৭ বিলিয়ন ডলার) প্রবাসী আয়, যার টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে প্রবাহিত হচ্ছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা টাকায় প্রায় ১ হাজার ১৬ কোটি ২৬ লাখ। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, চলতি বছর একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল—
জুলাই: ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার
আগস্ট: ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার
সেপ্টেম্বর: ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার
এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার ছাড়ায়, যা ছিল ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছর শেষে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল মোট ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরের মাসভিত্তিক আয় ছিল নিম্নরূপ—জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯.৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আর/