মধুমতী নদীর এপার থেকে ওপার শুধু ভেঙ্গেই চলছে। এ কান্না যেনো শুনার মত কেউ নেই। এই এলাকার দরিদ্র মানুষগুলোই বার বার নদীভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। নেই স্থায়ী ভাঙ্গন রোধের কোন ব্যবস্থা। পুরো জেলায় তাদের কারোরই মাথাগুজার মত অবশিষ্ট কোন জমিও নেই। আলফাডাঙ্গার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে কেউ সরকারি রাস্তার পাশে ঠাই নিলেও, সেই জায়গাও গিলে খেয়েছে মধুমতি।
ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আবারও শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। এই শুকনো মৌসুমে এবং অসময়ে নদীভাঙ্গন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী কে আরও ভাবিয়ে তুলছে। শুরু হয়েছে শীত। সব মিলিয়ে ম্যাসাকার অবস্থা নদী-পাড়ের শত শত মানুষের।
অন্যদিকে, নদী ভাঙ্গনে ফরিদপুর সদর,আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, সদরপুর চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা উপজেলার কমপক্ষে ২০/২৫ হাজার মানুষ আজ বিপন্ন হওয়ার পথে। ফরিদপুর সদর থানার ডিক্রিচড় ও ইউনিয়নের তিন চারটি ওয়ার্ড। নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২/৩ টি ওয়ার্ড।,সদরপুরের কমপক্ষে দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি।,চরভদ্রাসন উপজেলার একটি ইউনিয়ন বাদে সকল ইউনিয়ন পদ্মার বুকে বিলীন হয়ে গেছে।
এ ছাড়াও, গত এক বছর আগে মধুখালি উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ এলাকার কমপক্ষে দুইশত বিঘা জমি সহ মধুমতী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা এলাকায় তথা সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের এলাকায়, ব্যাপক নদীভঙ্গনে কয়েক শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। বাকি যেটুকু অবশিষ্ট জায়গা আছে এই ভুমিটুকু ভেঙ্গে মধুমতীতে চলে গেলে উপজেলার মানচিত্র থেকে একটি ইউনিয়নের পুরো একটি গ্রাম মুছে যাবে। সাথে হারিয়ে যাবে বেশকিছু ঐতিহাসিক প্রতিষ্টান।
আলফাডাঙ্গার স্কুল শিক্ষক কবির মিয়া বলেন, নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ ৪/৫ বার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা পাননি কেউ। বিগত ৩০ বছরে ফরিদপুর জেলায় কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ নদীভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এদের এখনও মাথা গোজার ঠাই হয়নি। যাদের ঠাই হয়েছে তদের বাড়ী ঘর আছে। ঘর বিতরনেও হয়েছে দলীয়করণ।
স্থানীয় এনজিও কর্মী রাহাত এই বিষয়ে বলেন বহু টাকা লোন দিয়েছি এলাকাবাসীকে,কিন্তু ঘরবাড়িই নেই কিস্তি ও চাইতে পারছি না।
৬০ বছর বয়সী নবিরন বললেন, গত ১৭ বছরের, যাদের বাড়ি ঘর হারিয়েছে তাদের মধ্যে শুধু মাত্র আওয়ামীলীগের সমর্থক ও স্থানীয় নেতাদের অনুশারীরা বাদে বিএনপি পন্থী কেউ কোন সরকারি জায়গা বা ঘর বরাদ্দ পাননি। আমার ঘরে জিয়ার ছবি পাইছে তাই ঘর পাইনি।
ফরিদপুর পৌর-নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গানও বন্যা একটি প্রকৃতিক দূর্যোগ। আমরা চাইনা কেউ এই দূর্যোগের মধ্যে পড়ুক। আমি এবং আমার সকল অফিসাররা মানুষের আপতকালিন সময়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করি সংশ্লিষ্ট সকল কাজে আন্তরিক হতে। আমরা চেষ্টা করি, বিপদি মানুষের জন্য নিবেদিত প্রান হিসেবে কাজ করতে। যখনই ভাঙ্গনের খবর পাই, সেখানেই ছুটে যাই। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন। তবে ভাঙ্গন রোধে সরকারি বাজেট খুবই অপ্রতুল। ইচ্ছে করলেই আমরা সরকারের বড় বাজেট ছাড়া ভাঙ্গন ঠেকাতে অগ্রগামী হতে ব্যার্থ হই। কম বাজেট থাকায় অনেক-কে সন্তুষ্ট করতে পারিনা। তবে সকলের জন্য আমাদের আন্তরিকতার কোন অভাব নেই।
আর/