সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য দুবাই এয়ার শোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজাস’কে সামনে এনে বিশ্বকে চমকে দিতে চেয়েছিল ভারত। কিন্তু বহুদিনের প্রস্তুতি ও উচ্ছ্বাস এক ঝটকায় নিভে যায়, যখন আকাশে প্রদর্শনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফাইটার জেটটি হঠাৎই ভেঙে পড়ে চোখের সামনে।
এই দুর্ঘটনা ‘তেজাস’-এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় এসেছে পাইলটের করুণ মৃত্যু। নিহতের পরিবার দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে।
হিমাচল প্রদেশের কাংগ্রা জেলার পাতিয়ালকার গ্রামে জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী উইং কমান্ডার নমান্শ সিয়াল সুজানপুরের সাইনিক স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি স্ত্রী, ছয় বছর বয়সী কন্যা ও বাবা-মাকে রেখে অকালে চলে গেলেন।
পরিবারের একজন সদস্য জানান, দুর্ঘটনার সময় নমান্শ সিয়ালের বাবা তামিলনাড়ুর সুলুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে অবস্থান করছিলেন, আর তার স্ত্রী তখন কলকাতায় কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সিয়ালের বাবা জগন্নাথ সিয়াল ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিকেল ইউনিটে চাকরি করার পর অবসর নিয়ে স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর হিমাচল প্রদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুকু তাকে ‘অসাধারণ সাহসী ও দায়িত্বশীল পাইলট’ বলে বর্ণনা করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জাইরম ঠাকুরও ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ উল্লেখ করেছেন।
ভারতের গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘তেজাস’—যা মিগ-২১–এর বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির প্রচারণায়ও ছিল শীর্ষে। কিন্তু দুবাইয়ে এমন একটি দুর্ঘটনা দেশটির উচ্চাকাঙ্ক্ষী রপ্তানি পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রদর্শনের সময়ে হঠাৎই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই বিমানটি আগুনে পুড়ে যায় এবং ঘন ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতীয় বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—
“দুবাই এয়ার শোতে প্রদর্শনের সময় একটি তেজাস যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। আমরা নিহত পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে, উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে তেলের লিকেজ দেখা গিয়েছিল। তবে, আইএএফ এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
আর/