মিরপুরে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ খেলায় আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) শেষ দিনের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল লম্বা সময় ব্যাট করে অসম্ভবকে সম্ভব করা, আর বাংলাদেশ চাচ্ছিল বাকি ৪ উইকেট। দিনের প্রথম সেশন সামান্য প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশনেই ম্যাচ শেষ করে স্বাগতিকরা।
শেষ দিনে ক্রিজে ছিলেন কার্টিস ক্যাম্ফার ৩৪ ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ১১ রানে। তবে ম্যাকব্রাইনকে ২১ রানে তাইজুল বোল্ড করলে আইরিশদের বিপর্যয় গভীর হয়। এরপর নেইলকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্ফার ৪৮ রানের কার্যকর জুটি গড়েন। নেইল ৩০ রানে মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে সেই প্রতিরোধ।
এরপর গাভিন হোয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্ফার সেঞ্চুরির দিকে অগ্রসর হলেও হাসান মুরাদ গাভিনকে ফিরিয়ে সেই জুটি থামান। শেষদিকে মুরাদের ধারাবাহিক আঘাতে দ্রুত শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ সমান ৪টি করে উইকেট তুলে নেন।
তার আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৯৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। বিপুল ৫০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। ওপেনার বালবার্নি ও স্টারলিংকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাইজুল। কারমাইকেলকে তুলে নেন মুরাদ। এরপর অর্ধশতক ছুঁয়ে ফেলেও হ্যারি ট্যাক্টর টিকতে পারেননি, তাকেও ফেরান মুরাদ। লরকান টাকারের ব্যাটও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
চতুর্থ দিনের শেষে আইরিশরা ৬ উইকেটে ১৭৬ রানে দিন শেষ করেছিল, যা থেকে ম্যাচ বাঁচানো তাদের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৭৬। জবাবে আয়ারল্যান্ড ২৬৫ রানেই অলআউট হলে টাইগাররা পেয়ে যায় ২১১ রানের বিশাল লিড—যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এখন দুই দল মুখোমুখি হবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। আগামী ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৯ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর।
আর/