ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তার আটক হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দু’দিকে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—একদল নাগরিক উদযাপন করছে, অন্যদিকে সমর্থকদের বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শহর।
দীর্ঘদিন ধরে পাঁচটি গুরুতর মামলায় গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন বোলসোনারো। ওই অবস্থাতেই তিনি নিজ হাতে বাঁধা ইলেকট্রনিক ‘অ্যাঙ্কেল ব্রেসলেট’ ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার পর ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। শনিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
বোলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও জানিয়েছেন, “মনিটরিং ডিভাইসটি কেন তিনি নষ্ট করলেন, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নই। হয়তো দীর্ঘসময় বন্দি জীবন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। পরিবারের কাছে বিষয়টি তার জন্য লজ্জারও হতে পারে।”
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল কারাগারের সামনে অনেক মানুষ ‘ফিউনারেল মার্চ’ বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। বিপরীতে তার সমর্থকেরা সড়কে নেমে এই গ্রেপ্তারকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। কিছু স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এক নাগরিক বলেন, “এটা ব্রাজিলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অপরাধ করলে যে কেউই আইনের মুখোমুখি হবে—এই গ্রেপ্তার তারই প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন পরাজয়ের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার অভিযোগসহ একাধিক মামলায় বোলসোনারোকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আর/