মানব সভ্যতার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের বর্জ্যের পরিমাণ যেমন পৃথিবীতে বাড়ছে, তেমনি অদৃশ্যভাবে আবর্জনা জমা হচ্ছে মহাশূন্যেও। অর্থাৎ মানুষ শুধু নিজের গ্রহ নয়, পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথকেও বিপদজনক করে তুলছে। অনন্ত মহাকাশে এই বর্জ্যের প্রভাব না থাকলেও পৃথিবীর কক্ষপথ এখন যেন ‘ই-আবর্জনার’ গোলকধাঁধায় পরিণত হচ্ছে। আর এই সমস্যাই এবার বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)।
কী এই প্রযুক্তিগত বর্জ্য?
মহাকাশের এসব বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে—
১) বিকল হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট,
২) রকেটের ফেলে রাখা খণ্ডাংশ,
৩) বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে ব্যবহৃত যন্ত্রের ছেঁড়া অংশ (যেমন লেন্স কভার, বোল্ট ইত্যাদি),
৪) কক্ষপথে সংঘর্ষে ভেঙে যাওয়া ধাতব খণ্ড।
মানুষ প্রথম মহাকাশ মিশন শুরু করার পর থেকেই কক্ষপথে এইসব ক্ষুদ্র–বৃহৎ ধ্বংসাবশেষ জমতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলন মাস্কের ‘স্টারলিঙ্ক’ উপগ্রহের বিশাল বহর উৎক্ষেপণের পর এ বর্জ্যের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়ে গেছে।
ইএসএর উদ্বেগ
এই বিপজ্জনক বৃদ্ধি ঠেকাতে ইএসএ শুধু সতর্কবার্তাই দেয়নি, বরং কার্যক্রমও শুরু করেছে। সংস্থাটি ‘জিরো ডেবরিস’ নামের একটি মিশন চালু করেছে, যার লক্ষ্য— ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সব মিশনে সৃষ্ট বর্জ্য পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা।
প্রতি বছর প্রকাশিত ইএসএর মহাকাশ-পরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে কক্ষপথে ১২ লাখেরও বেশি বর্জ্য উপাদান ঘুরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ কেন জরুরি?
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ রূপ না নিলেও এত তাড়াহুড়ো কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাশূন্য পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হতে আরও প্রায় দুই শতাব্দী লাগতে পারে। কিন্তু ইএসএর যুক্তি ভিন্ন—
মহাজাগতিক বর্জ্য যত বাড়বে,
নতুন উপগ্রহ বা মহাকাশযান পাঠানোর ঝুঁকি তত বেড়ে যাবে,
আর এর ফলে মহাকাশ অভিযানের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তাই পরিস্থিতি চরমে ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
আর/