জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের খুচরা দাম নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে বলে হাইকোর্ট রায়ে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ১৯৯৪ সালে জারি করা সেই সার্কুলার—যা সরকারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত করেছিল—অবৈধ বলে বাতিল করা হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব ওষুধের মূল্য সরকারকেই নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সোমবার রায় প্রকাশের তথ্য জানান। গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের নেতৃত্বে—রায়টি প্রদান করেন।
২০১৮ সালে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ওই সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে এইচআরপিবি। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রিটের পক্ষে রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, যা পরবর্তীতে ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন ২০২৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেই আইনে সরকারকে ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির সার্কুলার ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকিগুলোর দাম নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দিয়ে আইনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়।
রিটকারী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত; দাম অনিয়ন্ত্রিত হলে তা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হানে। তাই সরকারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত করার সেই সার্কুলার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি ছিল।
আর/