চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিযুক্ত করার বিষয়ে বিরোধী মহলের উদ্বেগকে ভিত্তিহীনভাবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বুধবার (২৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি বলেন—বন্দরে বিদেশি অংশগ্রহণ নিয়ে ছড়ানো নানা অভিযোগ মূলত ভুল বোঝাবুঝি ও অনুমাননির্ভর।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে যে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবেশ প্রচলিত ছিল, তার বিরুদ্ধে চলমান সংস্কার ও শুদ্ধি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় যে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
আশিক চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বন্দরকে ঘিরে দুর্নীতির নানা গল্প জনমনে প্রচলিত ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনের পথে। তিনি বলেন, “যদি দেড় বছর আগে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো ইন্টারনেটই বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের দৃঢ় অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশি অপারেটর আনলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে—বিরোধী দলের এমন আশঙ্কা তিনি ‘সবচেয়ে অযৌক্তিক দাবি’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, এসব আশঙ্কার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কোনও সামঞ্জস্য নেই।
বন্দরের নিরাপত্তা কাঠামোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি জাহাজকে কনটেইনার ও বিল অব লেডিং–সহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য আগেই জমা দিতে হয়। খালাস প্রক্রিয়ায় কাস্টমস নিয়মিত নজরদারি করে, পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডও নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করে। বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলেও এসব নিয়ম শিথিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি বিদেশি নাগরিকেরা ব্যবস্থাপনায় কাজ করেন, তবে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন থেকে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুমোদনের মধ্যে থাকবে। একইভাবে টার্মিনালের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, ডেটা নিরাপত্তা, সাইবার সুরক্ষা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ—সবই সরকারের নির্ধারিত মান বজায় রেখে পরিচালিত হবে।
জাতীয় নিরাপত্তার নামে অযৌক্তিক আতঙ্ক না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “যারা সত্যিই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা চাইলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন।”
তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ যুক্ত হলে বন্দর ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পৃক্ততা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল নয় বরং আরও সুসংহত করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বহুদিন ধরে বিদেশি অপারেটরদের দিয়ে বন্দর পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সামান্য বিদেশি উপস্থিতিকেও অতিরিক্ত সন্দেহের চোখে দেখা হয়, যা তিনি ‘এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পোস্টের শেষে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে একটি ইনফোগ্রাফিকও যুক্ত করেন।

আর/