সুদানের সাউথ করদোফান প্রদেশের কালোগি এলাকায় আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পরিচালিত ভয়াবহ হামলায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত ১১৪–তে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন শিশু রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর)। প্রাথমিকভাবে আরএসএফ একটি কিন্ডারগার্টেন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় আরও বৃহৎ আঘাত হানে হামলাকারীরা। সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)–এর একটি সূত্রও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, শহরের হাসপাতালে এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের মতে, বারবার হামলার কারণে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন উয়েত এক বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর শিশুদের হত্যা করা শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ উদাহরণ। শিশুদের কখনোই সশস্ত্র সংঘাতের মূল্য দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাত চলছে। সেনাবাহিনী দেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, আর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চল—বিশেষ করে দারফুর ও উত্তর করদোফান—এ শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। দীর্ঘ এই সহিংসতায় ইতোমধ্যে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আর/