দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। রোববার কম্বোডিয়ার সন্নিকটে অবস্থিত থাইল্যান্ডের সি সা কেত প্রদেশে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে থাইল্যান্ডের অন্তত দুই সেনাসদস্য আহত হন এবং এখন পর্যন্ত এক জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থাই সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কম্বোডিয়ার সেনারা সি সা কেতের সীমান্ত এলাকায় লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। থাই বাহিনী পাল্টা হামলা চালালে প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। আহত দুই থাই সেনার একজনের পায়ে এবং আরেকজনের বুকে গুলিবিদ্ধের আঘাত লাগে।
গোলাগুলি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থাইল্যান্ড জাতিসংঘে অভিযোগ করে যে, কম্বোডিয়া চুপিসারে সীমান্ত এলাকায় থাই ভূভাগের ভেতরে ল্যান্ডমাইন বসিয়েছে। এসব বিস্ফোরকে থাই ও চীনের কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও থাইল্যান্ড দাবি করে।
সংঘর্ষ থামার পরপরই থাই সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষীরা জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ—বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত ও উবন রাতচাথানি থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
সীমান্ত চাপে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে চলতি বছরের জুলাই মাসেও ১৫ বছরের শান্তিচুক্তি ভেঙে সংঘর্ষ হয়েছিল, যা টানা পাঁচ দিন স্থায়ী ছিল। সে সময় উভয় দেশের ৩২ জনের মৃত্যু এবং আরও অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের যৌথ মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
আর/