পরিবেশ সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪২ দিনে রংপুর বিভাগে ৭২টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি। এতে আদায় করেছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা জরিমানা। একই সময়ে ২১টি অবৈধ ও ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং চিমনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। সেখানে ২৬টি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দিনাজপুরে ১৪টি, রংপুরে ৫টি, পঞ্চগড়ে ৬টি, নীলফামারীতে ৭টি, গাইবান্ধায় ৫টি এবং ঠাকুরগাঁ জেলায় ২টি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানায়, এসব ইটভাটার অধিকাংশই বৈধ অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছিল অথবা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অনেক ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরনো ও নিষিদ্ধ চুল্লি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
কোথাও কোথাও কৃষি জমি নষ্ট করে ভাটা স্থাপন, আবার কোথাও বসতবাড়ির খুব কাছেই ইটভাটা চালু রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে জরিমানার পাশাপাশি ২১টি ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে সেসব ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম বলেন, বিভাগজুড়ে বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ২১টি অবৈধ ও ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং চিমনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে আগামী দিনে এ ধরনেরঅভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।