MNB News
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চীনের প্রভাব কমাতে বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রভাব কমাতে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে নিজেদের ও মিত্র দেশের সামরিক সরঞ্জাম দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যেগুলো চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হবে।

মঙ্গলবার (১০ই ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জিদের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমে যায়। এর প্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি ও প্রভাব গভীর ও জোরালো করে।

সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত সীমান্তের কাছে বাংলাদেশ একটি ড্রোন ফ্যাক্টরি করবে। এছাড়া পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাও করছে বাংলাদেশ। মাল্টি-রোলের এ যুদ্ধবিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে পাকিস্তান।

এ ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সাথে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিস্তারিত কোনো কিছু না জানিয়ে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।”

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তাক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছে। এতে উভয় দেশ লাভবান হয়েছে।”

বাংলাদেশের এ সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয় এবং তৃতীয় কোনো দেশ এতে হস্তক্ষেপ করবে— এমনটাও চীন মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ‘বাংলাদেশ ও ভালো সম্পর্ক থাকুক এমনটা চায়।’

বাণিজ্য কূটনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনশেন বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে ভাবছেন। কিন্তু তারা চান আগামী সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেখানে বোঝা যাবে তারা ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’।

তিনি বলেন, “বাণিজ্য কূটনীতিকে আমরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্জিত সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সাথে কাজ করার অপেক্ষায় আছি, বিশেষ করে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আমরা আগ্রহী।”
এস/

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনেক সময় খুব ছোট সমস্যাকেও বড় করে দেখি : অমিতাভ বচ্চন

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ক্যালিব্রেশন সেবা দিতে চায় জার্মানি

তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৪

গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন

ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়ে চড় খেলেন সংগীতশিল্পী!

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি,পাম্পগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ লাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা, চলছে পাকিস্তানে প্রস্তুতি

১০

কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

১১

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

১২

অবশেষে ২৫ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শাফিউলের মরদেহ

১৩

এবার সত্যিই প্রেম করছেন হলিউডের এই সুন্দরী!

১৪

নিজেদের আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলেছে ইরান

১৫

চরের মানুষের জন্য চালু হওয়া স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্সটি চলেনি একদিনও

১৬

২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ৯৬

১৭

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

১৮

’খাল খনন অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে’

১৯

যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

২০