পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায়। গার্মেন্টস ছুটি শুরু হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পাটুরিয়া ঘাটমুখী পরিবহনগুলোতে। এই সুযোগে কয়েকটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাংরোডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন তারা। তবে, অতিরিক্ত ভাড়া ও বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই।
গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ গার্মেন্টস ছুটি দিয়েছে। সাধারণ সময়ে পাটুরিয়া পর্যন্ত ভাড়া ২৩০ টাকা। এখন ৪০০ টাকা চাচ্ছে। আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও ঠিকমতো বাস পাচ্ছি না। আমি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় যাব।
তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুরগামী রজনীগন্ধা পরিবহন পাটুরিয়া পর্যন্ত ৪০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। একইভাবে শ্রাবণ ট্রান্সপোর্টও বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
শ্রাবণ ট্রান্সপোর্টের একটি বাসের কন্ট্রাক্টর মো. রুবেল হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। সড়কে যানজটও আছে। তাই ট্রিপ কম দিতে হচ্ছে। এ কারণে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবে বাস ভাড়া একটু বেশি থাকে। আমরাতো আর বোনাস পাই না।
আরেক গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, আজ ছুটি পেয়েছি। বাড়ি যাওয়ার জন্য সকাল থেকেই চেষ্টা করছি। অন্য সময় নীলাচল বাসে পাটুরিয়া পর্যন্ত ২৩০ টাকা ভাড়া ছিল, এখন ৪০০ টাকা চাচ্ছে। আমাদের মতো শ্রমিকদের জন্য এটা অনেক কষ্টের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই দক্ষিণাঞ্চলমুখী রুটগুলোতে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানা ছুটি হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বাড়ির পথে নামেন। এতে বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কে তৈরি হয় অতিরিক্ত চাপ। সুযোগ বুঝে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন