রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরা চেষ্টাই করেছিল অ্যাথলেটিক বিলবাও। পুরো ম্যাচজুড়ে চাপ সৃষ্টি করলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের একক নৈপুণ্যের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি তারা। ম্যাচের প্রতিটি গোলেই রেখেছেন সরাসরি ছাপ—প্রথমে নিজের গোল, এরপর কামাভিঙ্গার জন্য এক অসাধারণ অ্যাসিস্ট, আর শেষদিকে আরও একটি দুর্দান্ত গোল। ফলে ভালভার্দের দলকে মাঠ ছাড়তে হয় হতাশার সুরে।
৩–০ ব্যবধানের এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কাটিয়ে উঠেছে আগের টানা তিন ড্রয়ের অস্বস্তি। ১৫ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট, অবস্থান লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। এক পয়েন্টের ব্যবধানে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। বিলবাও ২০ পয়েন্ট নিয়ে আছে অষ্টম স্থানে।
স্যান ম্যামেসে ম্যাচ শুরুর মাত্র সাত মিনিটেই স্কোরলাইন বদলে দেন এমবাপ্পে। বিলবাও攻শ্য রক্ষণচাপে থাকা অবস্থায় নিকো উইলিয়ামসের পাস ধরে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড উঠে যান ডান দিকে। কিছুটা জায়গা বানিয়ে মাঝমাঠের কাছেই লম্বা বল বাড়ান এমবাপ্পের উদ্দেশে। বল পেয়ে ফরাসি ফরোয়ার্ড তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেন এক দুর্দান্ত শট—যা রিয়ালকে এনে দেয় প্রথম লিড।
বিরতির আগের গোলটি ছিল নিখুঁত দলগত ফুটবলের উদাহরণ। রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে উঠতে উঠতে কর্তোয়া, মিলিটাও, আর্নল্ড, ভালভার্দে, এমবাপ্পে, ভিনিসিউসসহ আরও কয়েকজনের পা বদলের পর বেলিংহ্যাম বল বাড়ান আর্নল্ডকে। ডান দিক থেকে আর্নল্ড ভাসিয়ে দেন বক্সের মধ্যে—এমবাপ্পের হেড থেকে বল পৌঁছায় কামাভিঙ্গার মাথায়। তিনি সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
শেষ মুহূর্তের এমবাপ্পের গোলটি ছিল পুরো ম্যাচের সেরা আকর্ষণ। ডি বক্সের কয়েক হাত বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট জালে প্রবেশ করে গোলরক্ষকের দৃষ্টির বাইরে দিয়ে। এটি তার চলতি লা লিগায় ১৬তম গোল। যা শুধু লা লিগাতেই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে সর্বোচ্চ। তার ঠিক পেছনে ১৫ গোল নিয়ে আছেন আরলিং হল্যান্ড।
লিগ–পরিসংখ্যান ছাড়াও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫—এটিও ইউরোপের পাঁচ প্রধান লিগের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। তার নিচে ২৪ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বায়ার্ন মিউনিখ তারকা হ্যারি কেন।
আর/